আবারও প্রকাশ্যে এল দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব

0
270

 

হিলি: তৃণমূলের গোষ্ঠী দ্বন্দ্ব ফের একবার প্রকাশ্যে এলো। তৃণমূল যুব কংগ্রেসের দলীয় কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দিল অন্য গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে। এমনকি তৃণমূল যুব কংগ্রেসের বেশ কয়েকজনকে মারধরও করা হয়। ঘটনায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায় দক্ষিণ দিনাজপুরের হিলিতে। এলাকায় উত্তেজনা থাকায় এদিন বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়ন ছিল হিলিতে। অবশেষে বিকেলে স্থানীয় তৃণমূল নেতা কল্যাণ কুন্ডুর নেতৃত্ব খুলে দেওয়া হয় তৃণমূল যুব কংগ্রেসের কার্যালয়ের তালা।

এরপর স্বাভাবিক হয় পরিস্থিতি। এদিকে প্রাক্তন মন্ত্রী শঙ্কর চক্রবর্তীর অনুগামীদের মারধর করার অভিযোগ ওঠে বর্তমান তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সভপতি বিপ্লব মিত্র অনুগামীদের বিরুদ্ধে। এদিকে এলাকায় উত্তেজনা থাকায় পুলিশ মোতায়ন রয়েছে। জানা গেছে, গতকাল হিলি বাস স্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় রয়েছে তৃণমূল যুব কংগ্রেসের ব্লক কার্যালয়। গতকাল ওই কার্যালয়ে বেশ স্থানীয় তৃণমূল নেতা কর্মীরা ছিলেন। অভিযোগ সেই সময়, বর্তমান তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সভাপতি বিপ্লব মিত্র অনুগামী তথা হিলির তৃণমূল নেতাদের নেতৃত্বে ওই কার্যালয়ে ঢুকে হামলা চালানো হয়।

মারধর করা হয় তৃণমূল নেতা মিহির সরকার সহ বেশ কয়েকজনকে। এমনকি কার্যালয়ের মূল গেটে মেরে দেওয়া হয় বেশ কয়েকটি তালা। এতে উত্তেজনা ছড়ায় গতকাল। এদিকে এদিন সকাল থেকেই আক্রান্তদের পক্ষ থেকে তৃণমূলের পতাকা নিয়ে কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ দেখাতে থাকে। স্থানীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, আক্রান্তরা প্রাক্তন মন্ত্রী শঙ্কর চক্রবর্তী ঘনিষ্ঠ। এবং হামলাকারিরা বর্তমান তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সভাপতি বিপ্লব মিত্র ঘনিষ্ঠ।

নিজেদের অন্দরের গোষ্ঠী কোন্দলের জেরেই এই ঘটনা। যদি হামলা বা তালা মারার অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিপ্লব মিত্র ঘনিষ্ঠ স্থানীয় তৃণমূল নেতারা। এমনকি যারা আজ আন্দোলন করছে তৃণমূলের পতাকা নিয়ে তারা আসলে তৃণমূলের কেউই নয়। যদিও হামলা করা হয়েছে ও তাদের কর্মীদের মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ শঙ্কর চক্রবর্তী অনুগামীদের। এদিকে এলাকায় উত্তেজনা থাকায় এখনও পুলিশ মোতায়ন রয়েছে এলাকায়। এবিষয়ে হিলি ব্লক তৃণমূল যুব কংগ্রেসের সভাপতি সুদীপ মহন্ত জানান। তাদের কর্মিদেরকে গতকাল পার্টি অফিসে ঢুকে মারধর করে কিছু তৃণমূলের মুখোশধারি দুষ্কৃতি।

এবং তাকে না জানিয়েই কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেয়। যারা মেরেছে তারা স্থানীয় তৃণমূল নেতা এবং জেলা সভাপতি বিপ্লব মিত্র অনুগামী বলেই পরিচিত এলাকায়। বিষয়টি তারা উর্দ্ধতন নেতৃত্বকে জানিয়েছেন ইতিমধ্যে। অন্য দিকে এবিষয়ে স্থানীয় তৃণমূল নেতা তথা জেলা পরিষদের সদস্য কল্যাণ কুন্ড জানান, তাদের বিরুদ্ধে ওঠা সম্পুর্ণ অভিযোগ ভিত্তিহীন। তৃণমূল যুব কংগ্রেসের এই কার্যালয়ের বোর্ড খুলে অন্য কিছু করতে চাওয়া হচ্ছিল। বিষয়টি জানতে পেরে তাদের কর্মী সমর্থকরা ঘটনাস্থলে আসে।

এবং পরিষ্কার জানিয়ে দেয় এটা যুব তৃণমূল কংগ্রেসেরই অফিস থাকবে। তৃণমূল নেতা হলে তাদের এই অফিসে প্রবেশাধিকার অবশ্যই থাকবে। কোন হামলার ঘটনা ঘটেনি। এমন কোন ঘটনা তাদের কর্মী সমর্থকরা করে নি বলে সাফ জানিয়েছেন কল্যাণবাবু।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here