বুকে ব্যাথা ? হার্ট অ্যাটাকের পূর্বলক্ষণ নয় তো ? কি বলছেন ডাক্তারবাবু জেনে নিন

0
1075
ডাঃশান্তনু দাস : হার্ট ব্লকের কথা শুনলেই কোন মানুষ বা কোন পরিবার বিপদগ্রস্থ হয়ে পরেন ও দিশেহারা হয়ে যা্ন । কারণ এই শব্দটির সাথেই জরিয়ে থাকে একরাশ বিপদ এবং প্রচুর চিকিৎসার খরচ । সুতরাং জানা যাক যে বিষয়টা কি ও এর জন্য আগাম কি ধরনের সতর্কতা নেওয়া যেতে পারে।
আমাদের হার্টের ব্লক সংক্রান্ত দুটো জিনিস আছে । একটাকে বলা হয় নার্ভ বা তন্তু যার দ্বারা হার্টরেট বা হৃদয়ের গতি নির্ভর করে । হার্ট ব্লক বলতে এই ধরনের নার্ভের মধ্যেকার ব্লকেজকেও বোঝায় । এই ব্লকগুলো অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ভয়ের হয় না এবং এর কোন চিকিৎসা নেই বললেই চলে । এর মধ্যে রাইট বান্ডিল ব্যাঞ্চ ব্লক বলে একটি জিনিস মানুষকে মাঝে মাঝেই আতঙ্কিত করে দেয়, কিন্তু এই ব্লকের কোন প্রভাব শরীরে পড়ে না । তবে এই নার্ভের ব্লকের ফলে বা নার্ভের অন্য কিছু অসুখ আছে যেখানে হার্টের গতি খুব কমে যায় সেইক্ষেত্রে প্রেসমেকার লাগিয়ে রোগীকে দ্রুত সুস্থ করা হয় । আবার এই নার্ভের জন্য মাঝে মাঝে হার্টের গতি অতিরিক্ত বেড়ে যায় সে ক্ষেত্রে দ্রুত চিকি্ৎসার প্রয়োজন হয় । অনেকক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদী ওষুধও খেতে হয় ।
হার্টের ব্লকের ব্যাপারে নিশ্চিত হতে ইসিজি, টিএমটি, ইকোকার্ডিওগ্রাফী ও এনজিওগ্রাম পরীক্ষা করা হয় । দ্বিতীয় ব্লকটি হল রক্তের নামলী ব্লক সেটা অবশ্যই ভয়ের, যদিও সব ব্লকই যে ভয়ের তা নয় । ১০০-র তুলনায় কত শতাংশ ব্লক এবং ব্লকটি কোথায় আছে তার উপরই নির্ভর করে চিকিৎসা । এর মধ্যে অধিকাংশ ব্লকের কোন অপারেশন ছাড়াই চলে। ওষুধই যথেষ্ট তবে এই ধরনের রোগীদের সারা জীবনই ওষুধ খেইয়ে যেতে হয় । এই ব্লকের দুই ধরনের অপারেশন করা হয়ে যাকে  (১) এঞ্জিওপ্লাষ্টি-এই পদ্ধতিতে হাত বা পায়ের কোন রক্তের নালী দিয়ে একটি ক্যাথেটার বা তার হার্টের মধ্যে ঢুকিয়ে হার্টের রক্তনালীর মধ্যে যেখানে ব্লক রয়েছে সেই জায়গায় একটা ছোট্ট পাইন স্টেন্ট লাগিয়ে দেওয়া হয় ।
এর ফলে সেই ব্লক হয়ে যাওয়া রক্তের নালী দিয়ে আবার রক্ত চলাচল স্বাভাবিক হয়ে যায় । তবে অনেক ক্ষেত্রে যেখানে এই ব্লক খোলা যায় না বা অনেকগুলো ব্লক একই রক্তনালীতে থাকে সেইক্ষেত্রে দ্বিতীয় বড় অপারেশনের প্রয়োজন হয় । যাকে বাইপাস সার্জারি বলে । এই পদ্ধতিতে শরীরের কোন জায়গা থেকে একটা রক্তনালী কেটে নিয়ে হার্টের ব্লক হয়ে যাওয়া রক্তনালীর অংশে প্রতিস্থাপন করা হয় । এই অপারেশনে ঝুঁকি বা রিস্ক অবশ্যই বেশী ।
কিন্তু একটা কথা জানা দরকার যে এই অপারেশনগুলো হয়ে গেলেই যে রোগী পুরোপুরি ভাবে সুস্থ হয়ে যাবেন এমনটা কিন্তু নয় । এই রোগীদের নিয়মিত ওষুধ খেতে হয়, ব্যায়াম করতে হয়, রক্তচাপ ও সুগারের মাত্রা স্বাভাবিক রাখতে হয় না হলে পুনরায় ব্লকেজ তৈরির সম্ভবনা থাকে ।
এবার আসা যাক সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে  এই ব্লক গুলো হওয়ার আগেই কি ধরনের সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত ?
১) আপনার উচ্চতা হিসাবে যতটা ওজন থাকা উচিত সেটা জানতে হবে ও ওজন নিয়ন্ত্রন করতে হবে ।
২) রোজ কিছু শারীরিক ব্যায়াম ও হাঁটাচলা করতে হবে, কমপক্ষে ১ কিলোমিটার হাঁটা উচিত ।
৩) আপনাকে রাতে কমপক্ষে ৭ ঘন্টা ঘুমাতে হবে ।
৪) রক্তচাপ ও ব্লাড সুগারের মাত্রা যে স্বাভাবিকের বেশী না হয় এবং এটা নিয়মিত মাপা ও কোন চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ রেখে চলা উচিত ।
৫) মানসিক টেনশন যতোটা না করা যায় ততটাই ভালো ।
৬) খাওয়ারের ক্ষেত্রে, রোজ ফল ও সব্জী বেশী করে খেতে হবে । রান্নাইয় লবন ও তেল মশলার নিয়ন্ত্রণ আনতে হবে । এক্ষেত্রে লো-সোডিয়াম সল্ট ব্যবহার করা যেতে পারে । মাংস খাওয়ার সাথে প্রচুর ক্যালোরি শরীরে প্রবেশ করে সুতরাং এর ব্যবহার কমানো উচিত । প্যাকেটের খাওয়ার, কোল্ড ড্রিংস ইত্যাদি খাদ্য খুব ক্ষতিকর । প্যাকেটের ফলের রস না খেয়ে বাড়িতে সদ্য বানানো ফলের রস খাওয়া উচিত ।
৭) যে কোনো ধরনের নেশা , বিশেষ করে তামাক জাতীয় ও মদ্যপান অসময়ে বিপদ ডেকে আনতে পারে ।
৮) পেটে মেদ জমতে দেওয়া একদমই উচিত নয়।
৯) কোন অজানা ওষুধ খাওয়া উচিত নয়। কোন দীর্ঘমেয়াদী ওষুধ চললে চিকিৎসকের কাছে জেনে নিন এর সাইড এফেক্টগুলো । যেমন কিছু মাইগ্রেনের ওষুধ আছে যেটা শরীরের ওজন বাড়িয়ে দেয় । সুতরাং কারোর ওজন বেশী থাকলে এই ধরনের ওষুধ না খাওয়াটাই উচিত । আবার স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধেরও নানা রকম সাইড এফেক্ট আছে ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here