সময় সিরিজ থেকে তিনটি কবিতা – জয়দীপ চক্রবর্তী, উত্তর ২৪পরগনা

0
889

জয়দীপ চক্রবর্তী

সময়৬৬

#
দৃশ্যতা অতন্দ্র হলেও হতে পারে ভুল
অনুমান থেকেও যেমন খুলে যাওয়া নিখুঁত
এসবে অন্ধকার জেনে স্রোতে ভাসা ঠিক
কে-চাই রাষ্ট্রের জবাচোখে টলোমলো হোক ভিত?
#
সাদা বেবাক নীল হোক, চুপনামা রাতভোর
রাষ্ট্রের পিপীলিকা রাতদিন গুনছে দুষ্টু-লোক
ভীষণ সংবেদে তোমারও হয় ভাঙচুর উচ্চারণ
জাগরণে, স্বপ্নময় নামে হতবাক রাজার শাসন।
#
যাদের উচ্চারণে হাততালি নেই, সবাই শ্রেণীশত্রু
সবার রক্ত-ঘাম জল, সাফল্যর স্বীকৃতি চুনকালি
হাতি পারাপার হয়, মশাতেই ভেঙেছে সেতু
বশ্যতার কোনও তুলনা নেই, এমনটাই রীতিনীতি।
#
তবুও কখন চোরাপথে যাপনে ঢোকে ঘাতকতা?
বন্ধু, ছুঁয়ে দেখো নষ্ট সময়ের অসারতা …

সময়৬৪

(শিশুদিবস স্মরণে)

#
শিশুর মুখ লালন চাই। অশান্ত আবহ।
দুনিয়ার দৃশ্যতা রক্তস্রোত সাঁতরে তন্নতন্ন স্থিতি। রান্নাবাটি খেলার মতো মৃত্যু নামা দেহ।
সবটাই ঝুটা। জবাচোখ জানা ত্রাসের বিস্তৃতি।
#
আমার শৈশব অক্ষর চেনেনা। মতাদর্শের সৈনিক।
তোমার শৈশব এক ইশারায় গলাকাটা জানে।
কচিকাঁচা চোখে খিদের চাঁদ উঠা দিগ্বিদিক।
অবাক পৃথিবী প্রশ্ন আঁকে কুসুম প্রাণে।
#
লাশের মতন পরে থাকা স্টেশন ফুটপাতে।
আমার সময় যোনি ছিঁড়তে পাশবিক জানে।
বুকের ভিতর থতমত মায়ের স্মৃতির রূপকথা।
এক পৃথিবী ঘুরেও শিশুর আজও অদেখা।
#
বিপন্নতার জমিন। পূর্বদিক তবুও লাল আজ।
আচ্ছে-দিনের চিৎকারে মৃদুস্বরে ভাসে শিশু দিবস …

সময়৬০

#
শিশির পরা হেমন্তর ভোর, হৃদয়পুর শূন্যতার ক্ষতে সিক্ত
ভুলে যাওয়া গান আসে যত, মনে পরে ফানুসে অঙ্গীকার কত
#
শিউলিতলা ফুলে ভরেছে। ছাতিমতলা টুপটাপ শিশিরের জলরঙে –
সকাল খুলছে কুয়াশা ছিঁড়ে। মনকেমনের ভরে উঠা সাদা পাতার ভুলে
#
আলসে রোদ্দুর উঠোন জুড়ে। না বলেই তার উঁকিঝুঁকি –
চুপনামা শব্দ যত ঘোর সাহসী, তুমি শীত জেনেছো দোষী?
#
সব আলো সহজ পারে হেমন্ত। এই আবহ আমার বড়ো প্রিয়,
সব ভুল ভেঙে যাবে জেনো – তখন আমায় তোমার করে নিও।
#
হেমন্তর কাছে সবটাই মামুলি, এমনই বেঁধে বেঁধে থাক সে
এই কুয়াশা আর শিশির সিক্ত চরাচরে – তুমি আরো নিবিড় হও সহজে