ইতিহাস ও মিথকে সঙ্গী করে আজও শতাধিক বছরের প্রাচীন নিয়মেই পূজো হয় রায়গঞ্জের দেবীনগর কালিবাড়িতে

0
295

দেবলীনা ব্যানার্জী,  রায়গঞ্জ : কথিত আছে সেকালে ডাকাতেরা ডাকাতি করতে যাবার আগে জঙ্গলাকীর্ণ এই জায়গায় মা কালীর পূজো করে তারপর বের হত। আনুমানিক তিনশো সাড়ে তিনশো বছরের পুরনো এই পূজোকে ঘিরে নানান জনশ্রুতি প্রচলিত আছে। তবে আজও রায়গঞ্জ তথা জেলাবাসী বিশ্বাস করেন দেবীনগর কালিবাড়ির মা অতি জাগ্রত।

তাই কালীপূজোর রাতে এই জেলা তো বটেই, আশেপাশের জেলা থেকেও প্রচুর ভক্তের সমাগম হয় এখানে। ডাকাতদের প্রচলিত এই পূজোয় এতদিন স্বাভাবিকভাবেই পশুবলি হয়ে আসছিল নিয়ম মত। কিন্তু গত বৈশাখ মাস থেকে এই মন্দিরে বলিপ্রথা তুলে দেওয়া হয়েছে, তাই এবার কালিপূজোর রাতে পশুর রক্তে ভিজবে না মন্দিরপ্রাঙ্গন।

ডাকাতদের শুরু করা এই পূজো পরবর্তীকালে দিনাজপুরের জমিদারদের তদারকিতে পুরোহিত ও ঢাকি সহ নিয়ম নিষ্ঠা মেনে চলতে থাকে। জমিদার পরিবার থেকে এলাকার বাসিন্দাদের নিয়ে একটি ট্রাস্টি বোর্ড গঠন করা হয়েছিল। সেই থেকে আজ অবধি একইরকম ভাবে ট্রাস্টি বোর্ডের তত্ত্বাবধানে হয়ে আসছে জাগ্রত এই দেবীর পূজো। মা কালী এখানে মৃন্ময়ী রুপে পূজিত হন।

জমিদার বাড়ির প্রচলিত নিয়ম মেনে কালীপূজার দিন সূর্যাস্তের পর মূর্তি গড়ে, সেই মূর্তিতেই পূজো করে সূর্যোদয়ের আগেই বিসর্জন দেওয়া হয়। এখানে মায়ের মন্দিরে কোন ছাদ নেই, খোলা আকাশের নীচে মায়ের স্থান। একবার নাকি জমিদার ভূপালচন্দ্র রায়চৌধুরির গাড়ি এই মন্দিরের সামনে এসে খারাপ হয়ে যায়। তিনি নিরাশ হয়ে বাড়ি ফিরে গেলে দেবীর মাহাত্ম্যে গাড়ি ঠিক হয়ে যায়।

সাথে দেবী তাঁকে স্বপ্নাদেশ দেন মন্দিরের চারপাশ ঘিরে দেবার জন্য, কিন্তু ছাদ যেন কখনই ঢাকা না দেওয়া হয়। দেবীর আদেশমতই  তিনি ছাদ আবৃত না করে শুধু মন্দিরের পাশে প্রাচীর তুলে দেন। এই মন্দিরে ২০-২২বছর ধরে পূজো করছেন পুরোহিত সাধন মুখার্জি। তিনি জানালেন, ‘পূজার দিন মনোবাসনা পূরণে দূরদূরান্তের বহু মানুষের ঢল নামে মন্দিরে।

বৈশাখ মাস থেকে বলিপ্রথা বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে এবছর পূজোর পরে পশুবলি না হলেও অন্যান্য সমস্ত নিয়ম আগের মতই মেনে পূজো হবে।’এই পূজোকে কেন্দ্র করে প্রতিবছরই দীপালি উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিবারের মত এবছরও উত্তরবঙ্গ জুড়ে নানান সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত  হবে এই উৎসবে।