ডুয়ার্সের শ্রমিক আন্দোলনের পথপ্রদর্শক ঘনশ্যাম মিশ্র নিয়ে শুরু হয়েছে চর্চা

0
101
মালবাজারঃ রবিবার ডুয়ার্সের শ্রমিক আন্দোলনের অন্যতম পথ প্রদর্শক ঘনশ্যাম মিশ্রের উপর এক বিশেষ স্মারক গ্রন্থ প্রকাশ করে মালদহ সাহিত্য পরিষদ। সেই গ্রন্থ প্রকাশের পর ডুয়ার্সের বিভিন্ন এলাকায় ঘনশ্যাম মিশ্রকে নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে। চর্চা হওয়া আবশ্যিক ছিল বহু আগেই। আত্মবিস্মৃতি আমরা বলি অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতের কর্ম পদ্ধতি ঠিক করব। কিন্তু, আমরা বর্তমান নিয়ে এত বেশি ব্যস্ত যে অতীতের কোন কথা মনে রাখতে চাইনা। সেই জন্য বোধহয় অতীতকে ভুলে যেতে চাই।
ঘনশ্যাম মিশ্রের স্মারক গ্রন্থ প্রকাশের পর মনে হয়েছে এটা হওয়া উচিত ছিল ডুয়ার্সের মালবাজার শহর থেকে। কারন মালবাজার শহর ছিল ঘনশ্যাম বাবুর কর্মক্ষেত্রের কেন্দ্রবিন্দু। এখানে বসবাস করে আশেপাশের চাবাগান এলাকায় শ্রমিক আন্দোলনে আত্মনিয়োগ করে ছিলেন। গত শতকের পাঁচের দশকে উত্তরবাংলার ডুয়ার্স এলাকার চাবাগানে শ্রমিক সংগঠনের কাজ করতে গিয়ে অনেক প্রতিকুলতার সামনে পড়তে হতো। চাবাগানে ম্যানেজারদের লৌহকঠোর শাসন ও অত্যাচার।
বাইরের দিকে কংগ্রেস নেতাদের দাপট। এই দুই প্রতিকুলতা এড়িয়ে চাবাগানে শ্রমিক বস্তি তে ঘুরে ঘুরে শ্রমিকদের একত্রিত করে তাদের বোঝানো এক মারাত্মক কষ্টকর কাজ ছিল। তার উপর সেই সময় শ্রমিকনেতাদের দিন চলাই কষ্টকর ছিল। মোটর বাইক বা গাড়ি ছিল কষ্টকল্পিত। পায়ে হেটে হেটে এক চাবাগান থেকে অন্য বাগানে ঘুরে ঘুরে গোপনে কাজ করতে হতো। এই প্রতিকুলতা অতিক্রম করে ঘনশ্যাম বাবু সেই  সময় কাজ করেছেন।
তার স্মৃতি চারন করতে গিয়ে ওদলাবাড়ির এক অবসর প্রাপ্ত প্রবীণ শিক্ষক প্রশান্ত শিকদার জানালেন সেই কিশোর বয়েসে দেখতাম। ওদলাবাড়িতে নেমে পায়ে হেটে পাথর ঝোরা যেতেন। সবসময় পরনে থাকত সাদা ধুতি ও কুর্তা। তার মারা যাওয়া অত্যন্ত দুঃখের। মালবাজার শহরের ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে যে বাড়িতে থাকতেন সেই বাড়ি বর্তমানে ধংসস্তুপে পরিনত। এখনও বাড়ির সামনে একটা বোর্ডে লেখা ঘনশ্যাম স্মৃতি ভবন। প্রতিবশি এক যুবক জানালেন, আমি ওনাকে বা ওনার পরিবারের কাউকে দেখিনি। বাড়ির আস্তারনটা আছে।
তার অনুগামীদের মধ্যে অনেকে এখনো হোপ, পাথরঝোড়া চাবাগানে রয়েছে। তাদের সবার স্মৃতি দুর্বল। তবে তার দলের অস্তিত্ব এখন আর নেই। রামমনোহর লোহিয়া ও জয় প্রকাশ নারায়ণের ভাব শিষ্য সোস্যালিস্ট পার্টির আদর্শে অনুপ্রানিত হয়ে ডুয়ার্সে শ্রমিক আন্দোলন করতে এসে আত্মবলিদান দিয়েছেন। এই ঘটনা ডুয়ার্সে বিরলতম।