রায়দান করা হল অযোধ্যা মামলার, কী বললেন প্রধান বিচারপতি, কী বললেন বিরোধী দলনেতা, বিস্তারিত পড়ুন

0
493

 

নিউজ ডেস্কঃ অযোধ্যা মামলা নিয়ে সুপ্রীম কোর্টের রায়কে সন্মান জানালেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা অধীর চৌধুরী। দিল্লিতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, আমি আদালতকে সন্মান করি। তাই আদালতের যেকোন রায়কে সন্মান করা উচিত বলে শনিবার মন্তব্য করেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা। তবে সুপ্রীম কোর্টের রায় নিয়ে আদালতকে সন্মান করা ছাড়া কোনো কথা বলতে রাজি হননি বহরমপুরের সাংসদ।

প্রসঙ্গত, শুক্রবারও রামমন্দির নিয়ে মোদি সরকারকে আক্রমণ করেছিলেন তিনি। অধীর চৌধুরী জানিয়েছিলেন, কেন্দ্রীয় সরকার হয়তো অযোধ্যা মামলার রায় আগেই জেনে গিয়েছে তাই বিজেপি নেতারা পালাকরে রামমন্দির নির্মানের দাবি তুলছে। তাও আবার রামমন্দির নিয়ে রায় দেবার চব্বিশ ঘন্টা আগে। তবে এদিন সুপ্রীম কোর্ট  রামমন্দির রায় দেবার পর এই ইস্যুতে আগাম কোন মন্তব্য করলেন না অধীর চৌধুরী।

প্রসঙ্গত, রামমন্দিরের পক্ষেই রায় দিল দেশের শীর্ষ আদালত। অযোধ্যার বিতর্কিত জমি রামলালার। ট্রাস্ট বানিয়ে আগামী তিন মাসের মধ্যে রামমন্দির নির্মাণের নির্দেশ দিল আদালত। একই সঙ্গে সুন্নি ওয়াকফ বোর্ডকে অন্যত্র ৫ একর জমি দেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। ঠিক সকাল সাড়ে দশটায় সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ অযোধ্যা মামলার রায় পড়তে শুরু করেন।  সুপ্রিমকোর্টের সাংবিধানিক বেঞ্চের পাঁচ বিচারপতি সর্বসম্মতিতে এই রায় দান করেছেন।

রায়ের প্রথমার্ধেই বিচারপতি বলেন ৩০ মিনিটে পুরো রায় পড়া শেষ হবে। প্রধান বিচারপতি সুন্নি ওয়াকফ বোর্ডের আর্জি খারিজ করে দেন। জমির মালিকানার পক্ষে প্রমাণ দেখাতে পারেনি সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড। প্রধান বিচারপতি বলেন, বাবরের সময় তার সহযোগী মীর বাকি মসজিদ তৈরি করেছিলেন।  ১৯৪৯ সালে সেখানে দুটি মূর্তি রাখা হয়। প্রধান বিচারপতি বলেন, বাবরি মসজিদ কোন খালি জমির উপরে তৈরি হয়নি।

এই মসজিদের নিচে অন্য কোন কাঠামো  ছিল যা কখনোই ইসলামিক স্থাপত্য ছিল না।  আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার খননকার্যে সেখানে অ-ইসলামিক স্থাপত্য থাকার সাক্ষ্য মেলে। ফলে খননকার্যের যে বিষয়গুলো উঠে এসেছে তাকে কখনোই এড়িয়ে যাওয়া বা খারিজ করা সম্ভব নয় সুপ্রিম কোর্টের। তিনি বলেন, খননকার্যে কোন ইসলামিক স্থাপত্যের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

প্রধান বিচারপতি বলেন, ইংরেজরা আসার আগে ওখানে রামচবুতরা এবং সিতাকি রসুইতে নিয়মিত পূজার্চনা করতেন হিন্দুরা। প্রধান বিচারপতি বলেন, আস্থা এবং বিশ্বাস এর ওপর কোন প্রশ্ন তোলা সম্ভব নয়। ভগবান শ্রী রামের জন্ম অযোধ্যাতে হয়েছিল, হিন্দুদের এই বিশ্বাস  নিয়ে কোন দ্বিধা নেই সুপ্রিম কোর্টের। রামলালাকে আইনত মান্যতা দিয়ে তিনি বলেন ১৮৫৬ থেকে ১৮৫৭ পর্যন্ত ওই জায়গায় হিন্দুদের পুজো করতে কোনো রকম বাধা দেওয়া হয় নি। একই সঙ্গে সুপ্রিম কোর্ট বলে, ১৯৯২ সালে যে মসজিদ ভাঙ্গা হয়েছে তা আইনবিরুদ্ধ।

সিজেআই বলেন, কয়েকশো বছর ধরে হিন্দুরা ওখানে পুজো করছে। এর থেকে প্রমাণ হয় যে তারা বিশ্বাস করেন সেখানে রামলালা বিরাজমান  আছেন। সিজেআই বলেন,বাইরের প্রাঙ্গণে হিন্দুরা পুজো করে চলেছেন দীর্ঘদিন ধরে। হাইকোর্টে মামলায় রায় বিতর্কিত জমিকে তিন ভাগে ভাগ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তা অযৌক্তিক ছিল না।

এরপর সুপ্রিম কোর্ট, স্পষ্ট করে জানিয়ে দেয় বিতর্কিত ২.৭৭ একর জমি রামলালার। আর আগামী তিন মাসের মধ্যে সেখানে রামমন্দির নির্মাণের পরিকল্পনা করুক কেন্দ্র সরকার। একটি ট্রাস্ট তৈরি করে মন্দির তৈরীর পরিকল্পনা করা হোক। এই ট্রাস্ট ঠিক করবে বিতর্কিত জমির পার্শ্ববর্তী এলাকাকে তারা কি ভাবে কাজে লাগবে। একই সঙ্গে  মুসলিম পক্ষকে আযোধ্যাতেই অন্যত্র ৫ একর জমি দেওয়ার আদেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট।